উদ্দীপকে উল্লেখিত দাবির সঙ্গে আমার পঠিত ১৯৬৬ সালে সংঘটিত ছয় দফা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্যাতিত বাঙালির পক্ষে যে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন তা বাংলার মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনাকার্টা', হিসেবে খ্যাত। ছয় দফায় বলা হয়, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য সত্যিকার একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে এবং দেশের দুই অঞ্চলের মধ্যে সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা থাকবে। উক্ত মুদ্রার পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে। আঞ্চলিক সরকারের হাতে সব প্রকার ট্যাক্স ও কর ধার্য ও আদায় করার ক্ষমতা থাকবে। তবে কেন্দ্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেডারেল ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে। এতে আরও বলা হয়, সব প্রকার বৈদেশিক চুক্তি ও সহযোগিতার ব্যাপারে আঞ্চলিক সরকার দায়িত্ব পালন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা যুক্তিযুক্ত হারে উভয় আঞ্চলিক সরকার কর্তৃক মেটানো হবে। তাছাড়া নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সরকার স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা, আধা সামরিক বাহিনী, অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা ইত্যাদি দাবি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে উত্থাপন করেন, যা বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের 'ম্যাগনাকার্টা' নামে পরিচিত। এসব তথ্য উপরে আলোচিত ছয় দফা দাবির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের দাবিগুলো ছয় দফা আন্দোলনকেই নির্দেশ করছে।