উদ্দীপকে উল্লিখিত অঞ্চল তথা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ছিল চরম পর্যায়ে। মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
ভারত বিভক্তিকালে পাকিস্তানের দুই অংশ যে অর্থনীতির উত্তরাধিকারী হয়, তাতে শুরুর দিকে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ বৈষম্য ছিল না। উভয় অংশের জিডিপি প্রায় সমান ছিল। কিন্তু পঞ্চাশের দশকের শুরু থেকে পূর্ব বাংলা প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করা হয় এবং ষাটের দশকেও তা অব্যাহত থাকে। ফলে ১৯৪৯-৫০ এবং ১৯৬৯-৭০এর মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের জিডিপি পূর্বাংশের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে এবং দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়। ষাটের দশকে দুই অংশের প্রবৃদ্ধি হার ছিল যথাক্রমে পূর্বাংশে ৪৩% এবং পশ্চিমাংশে ৬৪% । বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান দেখিয়েছেন, ১৯৫৫-৬০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের রফতানির অংশ ছিল ৩৮.৬০% এবং পূর্ব বাংলার রফতানির অংশ ছিল ৬১.৪৭ । বাজেটের ৭৫% ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে, ২৫% ব্যয় হতো পূর্ব পাকিস্তানে। যদিও পূর্ব পাকিস্তান থেকে রাজস্ব আয় ছিল বেশি, শতকরা ৬২ ভাগ ।
সামাজিক অবকাঠামোগত দিক থেকেও পূর্ব পাকিস্তান অনুন্নত ছিল। হাসপাতাল, অফিস, আদালত, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, ডাকঘর, টেলিফোন প্রভৃতি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছ পশ্চিম পাকিস্তানে। ১৯৪৭ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তান সামাজিক অবকাঠামোগতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে অবহেলিত থাকায় পূর্ব পাকিস্তান সামাজিকভাবে অনুন্নত ছিল ।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ছিল চরম পর্যায়ে।