বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উনার তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা অপরিসীম।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের সফল নায়ক হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে ছয় দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও সবশেষে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন একজন সফল রাজনীতিক। পঞ্চাশের দশকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলার আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, স্বায়ত্তশাসন, বাংলা ভাষার মর্যাদা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, এমনকি বাংলা শব্দ বিশিষ্ট নাম নিয়ে পর্যন্ত তিনি ছিলেন বরাবরই উচ্চকণ্ঠ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি ছিল ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রথম সারির নেতা। যেমন- ১৯৫২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজবন্দিদের মুক্তি ও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন আহমেদ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমরণ অনশন করেন। এতে ভাষা আন্দোলন বেগবান হয় ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত রচিত হয়। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদী ধারার নতুন অধ্যায় রচিত হয়। অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে উত্থাপিত ছয় দফা পাকিস্তানি শোষকদের ভিত কাঁপিয়ে তুলেছিল। আর অধিকার বঞ্চিত বাঙালির পক্ষে উক্ত ছয় দফা উত্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ৩১৩টির মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বান ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে নিজেদের বিজয় ছিনিয়ে আনে।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক, যা এক সর্বব্যাপী রূপ পরিগ্রহ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল।