উদ্দীপকের শিশুটি হলেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তদানীন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্দোলনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর বৃহত্তর পরিসরে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে। বঙ্গবন্ধু ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৬৮ সালের প্রথমদিকে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জন বিশিষ্ট বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে, যা ইতিহাসে আগরতলা মামলা নামে সুপরিচিত। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বাঙালি আন্দোলন শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি প্রদান করে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় উভয় আইনসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে পাকিস্তানি শাসকরা টালবাহানা শুরু করে। এ অবস্থায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু কৌশলে স্বাধীনতার ডাক দেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয় ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একটি শিশু গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। নেতৃত্বের গুণাবলির কারণে তিনি হয়ে গেলেন বাঙালির জাতির পিতা। বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম এবং ওই শিশুটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এসব তথ্য উপরে আলোচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীকেই তুলে ধরে।