উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনকে নির্দেশ করছে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এ নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ মূল ভূমিকা পালন করেছিল।
পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ছিল অভূতপূর্ব। এ ফলাফল পাকিস্তানের রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত করে। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানে ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পায় বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানে এ দল কোনো আসন পায়নি। আবার জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে পিপিপি পশ্চিম পাকিস্তানে বেশি আসন লাভ করলেও পূর্ব পাকিস্তানে তারা কোনো আসন পায়নি। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের এই ফলাফল বাঙালিদের স্বাধিকারের দাবি এবং রাজনৈতিক ঐক্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করায়। বাঙালিরা আত্মপ্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য নিজেদেরকে আত্মবলীয়ান করে তোলে। পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক বৃহৎ পুঁজি ও সামরিক আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্যকে বাঙালি জনগণ প্রত্যাখ্যান করে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, পাকিস্তানের এক অংশ আরেক অংশকে সমর্থন করে না। ফলে উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে একটি অসহযোগিতামূলক মনোভাবের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ সৃষ্টিতে মন্ত্রের মতো কাজ করে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে যায়, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণ কেবল ভৌগোলিক নয়, সেই সাথে আদর্শিক ও চেতনাগত দিক থেকে ও সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদে ছয় দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে মুক্তিসংগ্রামের আহ্বান জানান। অবশেষে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষিতে আপামর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি চূড়ান্ত বিজয় এবং লাল-সবুজের পতাকা লাভ করে ।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে পটভূমি তৈরিতে ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘটনা প্রভাবক হিসেবে কাজ করলেও মূলত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিল।