দৃশ্যকল্প-২ এ ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৭১ সালের কথা উল্লেখ রয়েছে। এই সালসমূহ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে - নিম্নে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো :
১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাহোর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির পক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এসব দাবি বাঙালির শাসনতান্ত্রিক মুক্তি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটায়। স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ সুগমকরনে ৬ দফার ভূমিকা ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানি সরকার ৬ দফা আন্দোলন কে নস্যাৎ করতে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা দায়ের করে। এর প্রেক্ষিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং মাওলানা হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৬৯ সালে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন। ফলে আইয়ুব খান মামলা প্রত্যাহার করেন এবং রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেন। এই আন্দোলনের বিজয়ের প্রভাবেই মূলত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তি সংগ্রামের আহ্বান জানান। পরবর্তীতে ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার নির্দেশে বাঙালিরা মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে দীর্ঘ নয়মাস যুদ্ধের শেষে ৩০ লক্ষ বাঙালির প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর আমরা চূড়ান্ত বিজয় লাভ করি। অর্জন করি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তাই বিশ্লেষণপূর্বক বলা যায়, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৭১ সালসমূহ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে - উক্তিটি যথার্থ।