উদ্দীপকের দ্বিতীয় সালটি হচ্ছে ১৯৬৯। নিম্নে ১৯৬৯ এর তাৎপর্য বর্ণনা করা হলো :
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৬৯ সালে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মৌলিক গণতন্ত্র, আগরতলা মামলা ও আইয়ুবখানে নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের উভয় অংশ ১৯৬৯ সালে এক দুর্বার গনআন্দোলন শুরু হয়। ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ছাত্র সমাজ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এই পরিষদ বঙ্গবন্ধু ৬দফার সাথে আরো কয়েকটি দাবি মিলিয়ে ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এছাড়াও আন্দোলনের সময় ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। এ সময় পুরো পাকিস্তানে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলনের তীব্রতায় অবশেষে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান আগরতলা মামলা বাতিল ও বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন এবং ক্ষমতা ইয়াহিয়া খানের নিকট হস্তান্তর করেন।
গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতনের ফলে মানুষের বিজয় অর্জিত হয়। যা বাঙালি জাতি পাকিস্তানিদের উপনিবেশিক শাসন শৃঙ্খলে আর আবদ্ধ থাকতে চায় না এটি প্রমাণ করে এই আন্দোলনের সফলতা বাঙালিদেরকে মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করেছিল গণঅভ্যুত্থান। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাঙালি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নামে, যা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামকে বেগবান করে।
তাই বলা যায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিকাশ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।