ঘটনা-১ এ উল্লিখিত বিবাহটি বহুবিবাহকে নির্দেশ করছে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিবাহ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে।
আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, জাতিগত সংস্কৃতি, শিক্ষা, সচেতনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ইত্যাদি কারণে বিবাহে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ রহিম মিয়াকে পুত্র সন্তানের আশায় পুনরায় বিয়ে করতে দেখা যায় যা বহুন্তী বিবাহকেই নির্দেশ করে। এক স্ত্রীর মৃত্যুর পর অথবা স্ত্রীর মৃত্যুর পর অথবা স্ত্রীকে বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে ত্যাগ করে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করার ঘটনা আমাদের সমাজে মোটেও বিরল নয়। এমনকি এক স্ত্রী বর্তমানে আরেক স্ত্রী গ্রহণের মাধ্যমে বহু স্ত্রী বিবাহভিত্তিক পরিবারের চিত্রও এদেশের সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে অনেক ধনী কৃষক কৃষিকাজের সুবিধার জন্য একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করত। শিক্ষার প্রসারে বর্তমানে তা সীমিত হয়ে এসেছে। তবে নতুন এক ধরনের। সমস্যা দেখা দিয়েছে যেখানে বিশেষ করে গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের কোনো স্বামী একের পর এক বিবাহ করছে আর স্ত্রীকে পরিত্যাগ করছে। অথবা, আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যাগ না করে আবার অন্যত্র বিবাহ করছে। আর এর কারণ মূলত আর্থসামাজিক। বিয়ের পর স্বামী সংসার চালাতে ব্যর্থ হয়ে এ ধরনে আচরণ করে চলছে। আবার, পুত্র সন্তান লাভের আশায়ও অনেকে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করছে। কেননা, আমাদের সমাজব্যবস্থায় পুত্রকেই ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ 'আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অবশ্য বর্তমানে বাংলাদেশের বৈবাহি আইনে পরবর্তীতে বলা হয়েছে যে, স্ত্রীর বিনাঅনুমতিতে স্বামী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করতে পারবে না। এ নিষেধ অমান্য করলে প্রথম স্ত্রী আইনের আশ্রয় নিতে পারবে।
বাংলাদেশের সমাজে তাই বহু স্ত্রী গ্রহণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।