আকারের ভিত্তিতে ফজলু মিয়ার পরিবার যৌথ পরিবার। কারণ তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২০ জন এবং এখানে মা-বাবা, ভাইবোন, চাচা-চাচি, স্ত্রী, সন্তান ইত্যাদি সদস্য রয়েছে।
রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে কয়েকটি একক পরিবারের সমষ্টি হলো যৌথ পরিবার। যখন নববিবাহিত দম্পতি পৃথক বাসগৃহের পরিবর্তে মা- বাবা, ভাইবোন, চাচা-চাচি এবং কাজিনদের সাথে বসবাস করে তখন তাকে যৌথ পরিবার বলে। এটি আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্যমণ্ডিত পরিবার। তবে বর্তমান শহরাঞ্চলেও দু-চারটি যৌথ পরিবার লক্ষ করা যায়। বর্তমানে আর্থিক দুরবস্থা, পেশাগত পরিবর্তন, সম্পত্তি সিলিং নীতি, সমাজ ও ব্যক্তিত্বের সংঘাত ইত্যাদি কারণে যৌথ পরিবারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য একক পরিবারের। বাংলাদেশের গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের তুলনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যৌথ পরিবারের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা যায়। যৌথ পরিবারের সদস্যরা মিলেমিশে থাকলে পরিবারের উন্নতি দ্রুততর হয়। যৌথ পরিবারের সদস্যগণ পারিবারিক শক্তি- সামর্থ্যে একক পরিবারের চেয়ে উন্নত। গ্রামীণ সমাজে যৌথ পরিবারের প্রভাব প্রতিপত্তি বেশি। বাংলাদেশে এক সময়ে যৌথ পরিবার বেশি ছিল।
যৌথ পরিবার পরিচালনা করে মানুষ গর্ববোধ করত। যৌথ পরিবার তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্য।