উদ্দীপকে রতন মিয়ার পরিবারটি হলো যৌথ পরিবার।
যৌথ পরিবার বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্যমণ্ডিত পরিবার। কিন্তু নানা কারণে এ পরিবারের অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে এবং যৌথ পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। দারিদ্র্যতা ও শ্রমবিভাজনের সৃষ্টি হওয়ায় অনেকে কৃষিকাজ ছেড়ে ভিন্ন কাজে ও পেশায় প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্যত্র কাজের সন্ধানে ছুটতে থাকে। যৌথ পরিবার ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে নতুন করে বসবাস করতে থাকে এতে যৌথ পরিবারে ভাঙন দেখা দেয়। নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলেও যৌথ পরিবারে ভাঙন দেখা দেয়। নগর-বন্দর গড়ে ওঠা এবং শিক্ষা ও কারখানার বিকাশের ফলে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়। ফলে গ্রামীণ যৌথ পরিবারের যুব ও মধ্যবয়সী সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে কাজের সন্ধানে নগরে চলে আসে এবং নগরেই স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করে। এর ফলে গ্রামের যৌথ পরিবারে ভাঙন ত্বরান্বিত হতে থাকে। তাছাড়া শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে উন্নয়ন ভাবনা ভাবতে শুরু করেছে এবং আগের তুলনায় মানুষ ক্রমশ অতিশয় বৈষয়িক হয়ে পড়ছে। ব্যক্তি হিসেবে প্রত্যেকে স্বাধীন চিন্তা-ভাবনা করতে ভালোবাসে। যৌথ পরিবারে ব্যক্তির স্বকীয় চিন্তা ও কর্ম খানিকটা সীমিত। তাই ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদী ধ্যান-ধারণা যৌথ পরিবারে ভাঙন ডেকে আনে। তাছাড়া পারিবারিক জীবনে অনেক সময় আর্থিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণে কলহ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত দেখা দেয়।
এসব কলহ যৌথ পরিবারে ভাঙন ডেকে আনে। তাই বলা যায়, রতন মিয়ার পরিবারটি নগরায়ণ ও শিল্পায়ণের প্রভাব, আর্থিক দুরাবস্থা, পেশাগত পরিবর্তন, শ্রম. বিভাজন, সম্পত্তি সিলিং নীতি, ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক কলহ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত, ব্যক্তিগত পর্যায়ে উন্নয়ন ভাবনা প্রভৃতি কারণে ভেগে যাচ্ছে।