উদ্দীপকে জ্ঞাতিসম্পর্কের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে লক্ষণীয়, বাবর সাহেব তার নিকটাত্মীয় অসুস্থ হলে সাহায্যের হাত বাড়ান। তার আত্মীয়-স্বজন মাঝে মাঝে তার বাসায় বেড়াতে আসে। তিনি যথাসাধ্য তাদের আপ্যায়নের চেষ্টা করেন। বাবর সাহেবের এমন কাজ জ্ঞাতিসম্পর্কের গুরুত্বকেই তুলে ধরে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতানুসারে, আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠীর সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ নিকটজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কই হলো জ্ঞাতিসম্পর্ক। অর্থাৎ, জ্ঞাতির সাথে সম্পর্কই জ্ঞাতিসম্পর্ক। বাংলাদেশের সমাজজীবনে জ্ঞাতিসম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত ও দৃঢ়। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জ্ঞাতিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে, আর্থিক সংকটে সহযোগিতা যেমন— সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, জমি বর্গা নেওয়া-দেওয়া, ঋণ আদান-প্রদান প্রভৃতি ক্ষেত্রে জ্ঞাতিরা সাহায্য করে থাকে। আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন- নির্বাচন বা জনকল্যাণমূলক কাজে জ্ঞাতিরাই প্রথমে এগিয়ে আসে। নেতৃত্ব সৃষ্টিতেও জ্ঞাতিসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন— নির্বাচনের সময় যে প্রার্থীর জ্ঞাতি গোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি সে সহজেই নির্বাচনে জয়লাভ করে। এছাড়াও স্বজনপ্রীতি, জাতীয়তাবোধ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিরা অনবদ্য অবদান রাখে।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, পারিবারিক, সামাজিক, আর্থিক ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে জ্ঞাতিসম্পর্কের ভূমিকা অপরিসীম