উদ্দীপকে জেন্ডারের ভিত্তিতে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্য প্রতিফলিত হয়েছে।
জেন্ডার হচ্ছে সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা নারী-পুরুষের পরিচয়। সমাজে নারী ও পুরুষ কে কী রকম আচরণ করবে, কে কেমন পোশাক পরবে, কার আশা-আকাঙ্ক্ষা কী রকম হবে তা প্রকাশ করে জেন্ডার। জেন্ডারের ধারণায় সামাজিকভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করা হয়, যা সম্পূর্ণভাবে মানুষের তৈরি। এ ধারণায় নারীকে শিক্ষা, চাকরি, সামাজিক আচরণবিধি, চলাফেরা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা হয়। ঘরের বাইরে নারীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও বাধার সৃষ্টি করা হয়। এছাড়া পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় পুত্রসন্তানের জন্য যথাসাধ্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কন্যাসন্তানের ক্ষেত্রে তা হয় না। উদ্দীপকে দেখা যায়, ভালো রেজাল্ট ও একান্ত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মনিরা বেগম উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি। কিন্তু তার 'ভাইদের ক্ষেত্রে এরূপ কোনো বাধা আসেনি। তার বাবা মনে করেন 'সংসার সামলানোই মেয়েদের প্রধান কাজ। তাই মেয়েদের বেশি লেখাপড়ার দরকার হয় না। যা উপরে আলোচিত জেন্ডারের ভিত্তিতে সৃষ্ট বৈষম্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি জেন্ডার বৈষম্যকেই নির্দেশ করছে।