উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ক্রিয়াবাদী তত্ত্বটি। খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
সমাজ ও সংস্কৃতি পাঠে ক্রিয়াবাদ একটি বিশেষ তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি। ক্রিয়াবাদী তাত্ত্বিকদের মতে, সমাজ হলো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আচার-প্রথার এক জটিল সমন্বয়। ক্রিয়াবাদী তাত্ত্বিক কিংসলে ডেভিস ও মুর বলেন, সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজের কার্যাবলির জন্য জরুরি। কারণ সমাজের কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য তাদেরকে তুলনামূলকভাবে বেশি সম্মান ও পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে। কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ। কাজগুলো অধিক মেধাসম্পন্ন লোক ছাড়া করা যায় না। তাছাড়া অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণেরও প্রয়োজন পড়ে। এজন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ছাড়া উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণে কেউ রাজি হয় না। উদ্দীপকেও অনুরূপ চিত্র লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' নামক গ্রামটিতে কোনো এমবিবিএস ডাক্তার ছিল না। দরিদ্র কৃষক পরিবারের ছেলে জামাল সংকল্প থেকে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে ডাক্তার হয়ে গ্রামে ফিরে আসে। অধিক মেধাসম্পন্ন হওয়ায় জামাল তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য ক্রিয়াবাদী তত্ত্বের ন্যায় গ্রামবাসী তাকে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সমীহ করে। অর্থাৎ ক্রিয়াবাদী তত্ত্ব অনুযায়ী যোগ্যরা অধিক সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সামাজিক স্তরবিন্যাসের ক্রিয়াবাদী তত্ত্বটি অধিক যুক্তিযুক্ত এবং মানানসই।