আধুনিক সমাজে ভিন্ন ধরনের সামাজিক স্তরবিন্যাস লক্ষণীয়- বক্তব্যটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: আধুনিক সমাজে বর্ণপ্রথার ধারণা অনুপস্থিত। কেবল ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় হিন্দু সমাজে এ ব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে আধুনিক সমাজ মূলত শ্রেণিভিত্তিক সমাজ। আধুনিক প্রতিটি সমাজে কমবেশি সামাজিক শ্রেণির ধারণা বিদ্যমান। সামাজিক শ্রেণি বলতে এমন একটি দল বা গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা মোটামুটি একই ধরনের জীবনযাপন করে, একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। অর্থাৎ, উৎপাদন কাজে যারা একই ধরনের ভূমিকা পালন করে ও যাদের আয় ও জীবনযাপন প্রণালির মধ্যে একটা সামঞ্জস্য আছে, তারাই একেকটা শ্রেণি। কার্ল মাকর্স আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে অর্থনৈতিক ভিত্তিতে দুটো শ্রেণির কথা বলা বলেন। মালিক শ্রেণি এবং শ্রমিক শ্রেণি। মূলত আধুনিক সমাজে স্তরবিন্যাসের চারটি ধরনের মধ্যে সামাজিক শ্রেণি বেশি মাত্রায় লক্ষণীয়। আধুনিক সমাজে সাধারণ তিনটি শ্রেণি দেখা যায়। যথা-
উচ্চবিত্ত শ্রেণি: কলকারখানার মালিক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, এমপি, মন্ত্রী, ধনী ব্যবসায়ী প্রভৃতি এ শ্রেণিভুক্ত।
মধ্যবিত্ত শ্রেণি: শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবী শ্রেণি মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আবার উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
নিম্নবিত্ত শ্রেণি: কৃষক, শ্রমিক, কর্মজীবী, দিনমজুর প্রভৃতি অবস্থানের মানুষ এ শ্রেণির অধিভুক্ত।
উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আধুনিক সমাজে বর্ণপ্রথা নয় বরং সামাজিক শ্রেণির ধারণাই বিদ্যমান উপরিউক্ত শ্রেণিগুলোর ভিত্তিতেই আধুনিক সমাজে স্তরায়ন করা হয়।