জাতিবর্ণ প্রথার কারণে সুব্রত তার সামজিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।
হিন্দুধর্মে জাতিবর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথা। হিন্দুশাস্ত্রে চারটি বর্ণের কথা বলা হয়েছে, যথা- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র। ব্রাহ্মণরা প্রধানত ধর্ম ও বিদ্যাচর্চা করেন। ক্ষত্রিয়রা যেদ্ধা শ্রেণি হিসেবে পরিচিত। বৈশ্যরা ব্যবসায় বাণিজ্য করে। আর সবচেয়ে নীচু জাতের পেশাজীবী শ্রেণি হচ্ছে শূদ্ররা। বর্ণপ্রথায় ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা, অধিকার, পেশা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সবকিছু পূর্ব নির্ধারিত, অর্থাৎ জাতিবর্ণ একটি বদ্ধ ব্যবস্থা। ব্যক্তি যে বর্ণে জন্মগ্রহণ করে তাকে সেই বর্ণেই থাকতে হয়। ইচ্ছা করলেই কেউ বর্ণ বা পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করতে পারে না। অর্থাৎ পিতা যে বর্ণ এবং পেশায় ছিল ছেলেকেও একই বর্ণ ও পেশায় নিয়োজিত হতে হয়।
উদ্দীপকে লক্ষণীয়, সুব্রত গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করে। তার চাকরি করার প্রবল ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে পৈত্রিক পেশা বেছে নিতে বাধ্য হন। ইচ্ছা থাকলেও সে পৈত্রিক পেশা এবং সামাজিক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। সুব্রতের এসব বৈশিষ্ট্য পূর্বোক্ত আলোচনায় আলোচিত হিন্দুধর্মের জাতিবর্ণ প্রথার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এ কারণেই সে তার সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। সুতরাং উপরের আলোচানা থেকে বলা যায়, জাতিবর্ণ প্রথার কারণে সুব্রত তার সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।