এ উদ্দীপকের গফুর মিয়ার সামাজিক অবস্থান যে ধরনের প্রেক্ষাপটের ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো সামাজিক শ্রেণি ও পদমর্যাদার অর্জিত মর্যাদা।অর্জিত মর্যাদা হলো ব্যক্তির স্বীয় যোগ্যতাবলে অর্জন করা মর্যাদা। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির অবস্থান মুখ্য নয় বরং যোগ্যতাই আসল। অন্যভাবে বলা যায়, সমাজ যখন ব্যক্তির কাজকর্ম যোগ্যতার ভিত্তিতে মর্যাদা প্রদান করে তখন তা হবে ব্যক্তির অর্জিত মর্যাদা। অর্জিত মর্যাদার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার ইত্যাদি। শ্রেণির ক্ষেত্রে ব্যক্তির মর্যাদা হচ্ছে অর্জিত মর্যাদা। কেননা শ্রেণিব্যবস্থায় সামাজিক মর্যাদা পূর্বনির্ধারিত থাকে না। জন্মের সাথে সম্মান ও মর্যাদার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এখানে সামাজিক মর্যাদা অর্জিত, আরোপিত নয়। উদ্দীপকের গফুর মিয়া পূর্বে আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে ছিলেন না। তিনি জমি বিক্রি করে এক ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠালেন এবং অন্য ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে এমবিবিএস ডাক্তার বানালেন। এই উদ্যোগের ফলে তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সমাজে তার মর্যাদা এবং সম্মানও বেড়েছে। এটি স্পষ্টভাবেই প্রমাণ করে যে, সামাজিক অবস্থান ব্যক্তির নিজস্ব প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে।সুতরাং উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, গফুর মিয়ার উদাহরণ পাঠ্যবইয়ের শ্রেণি ও পদমর্যাদার অর্জিত মর্যাদাবিষয়ক ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।