ছক-২-এ উল্লেখিত সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরন তথা জাতিবর্ণ প্রথা একটি বদ্ধ ব্যবস্থা- বক্তব্যটি যথার্থ।
জাতিবর্ণ বলতে আন্তঃগোত্র বিবাহভিত্তিক এমন এক গোষ্ঠীকে বোঝায় যার সদস্যপদ জন্মসূত্রে লাভ করতে হয়। এটি মূলত একটি পেশাগত গোষ্ঠী যাতে বিভিন্ন শ্রেণির সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে। এ প্রথায় পেশা অনুযায়ী শ্রেণি ও মর্যাদা নির্ধারিত হয়। জাতিবর্ণ প্রথায় প্রধানত চারটি শ্রেণি দেখতে পাওয়া যায়। যথা- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র। উদ্দীপকের ছক-২ এ উক্ত চারটি শ্রেণি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ছক- ২ জাতিবর্ণ প্রথাকে নির্দেশ করছে।
সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী তার মর্যাদা, শ্রেণি, আয়, শিক্ষা, কর্তৃত্ব, শক্তি ও অন্যান্য কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত থাকে। সব মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে না বা সমান মর্যাদার অধিকারী হয় না। ব্যক্তি তার কর্মের দ্বারা সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদার অবস্থানে নিজেকে আসীন করতে পারেন। এক্ষেত্রে অতীতে সে কোন সামাজিক শ্রেণি বা অবস্থানে ছিল, সেটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু জাতিবর্ণ প্রথায় জন্মসূত্রে প্রাপ্ত একই ঐতিহ্যবাহী পেশায় নিয়োজিত থাকতে হয়। ফলে ব্যক্তি চাইলেও নিজের সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে পারে না ।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, জাতিবর্ণ প্রথা একটি বন্ধব্যবস্থা, যেখানে সামাজিক গতিশীলতা রীতিনীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।