উদ্দীপকের অবস্থা নিরসনে সামাজিক সেবা কর্মসূচি গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত বলে আমি মনে করি ৷
সামাজিক সেবা হলো সামাজিক নিরাপত্তার সেই অংশ যেখানে সকল নাগরিকের জন্য প্রয়োজন মাফিক সেবা প্রদান করা হয়। যেমন- বেকার ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, কল্যাণ তহবিল প্রভৃতি। এসব সেবা প্রদানের ফলে রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে আর্থ-সামাজিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। একজন সক্ষম নাগরিক নিজের ব্যয়ভার বহন করতে পারলেও অক্ষম বা বিপর্যস্ত নাগরিক তা পারেন না। তাদের জন্য এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তামূলক সেবা জীবনযাপনের অন্যতম পাথেয় হিসেবে কাজ করে। সর্বোপরি সামাজিক নিরাপত্তা অক্ষম ও বিপন্ন মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণের মাধ্যমে একটি ন্যূনতম জীবনমান বজায় রাখতে সাহায্য করে। আর ব্যক্তি যখন ন্যূনতম জীবনমান বজায় রাখতে সক্ষম হয় তখন সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নতি গতি লাভ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বয়সের ভারে শরীরে জোর না পাওয়ায় কাশেম মিয়া কোনো কাজ পান না। এ কারণে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তিনি বিভিন্ন বাস স্টপেজে ভিক্ষা করেন। তার সাথে বিভিন্ন বয়সের অন্য, পঙ্গু ও অসুস্থ ভিক্ষুকও ভিক্ষা করেন। উপরে আলোচিত সামাজিক সেবা কর্মসূচির মাধ্যমে এসকল অসহায় মানুষদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। কেননা সামাজিক সেবার আওতায় প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ বয়স্ক ভাতা বা পঙ্গু ভাতা পেলে তারা ভিক্ষা করার পরিবর্তে সম্মানে জীবনযাপন করতে পারবে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সামাজিক সেবা দানের মাধ্যমে উদ্দীপকের মতো পরিস্থিতি নিরসন করা সম্ভব ।