উদ্দীপকে উল্লিখিত বাহন তথা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সামাজিকীকরণের আরও অনেক মাধ্যম রয়েছে— মন্তব্যটি যথার্থ ।
উদ্দীপকে সামাজিকীকরণের অন্যতম বাহন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আরও বিভিন্ন মাধ্যম শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন—শিশুর সামাজিকীকরণে পরিবার প্রধান ভূমিকা পালন করেন। পরিবারকে শিশুর প্রাথমিক সূতিকাগার বলা হয়। শিশু তার পরিবার থেকে যে আদর্শ-মূল্যবোধ, রীতিনীতি, আচার-আচরণ-এর শিক্ষা লাভ করে থাকে সে হিসেবেই তার ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে ওঠে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুর সামাজিকীকরণের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি রচনা করতে সাহায্য করে । পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে শিশু প্রথমে বিদ্যালয়ে যায়। বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের শিক্ষকদের ভালোবাসা, উপদেশমূলক বাণী ইত্যাদি শিশু মনে গভীর রেখাপাত করে। এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েই শিশু তার পরবর্তী জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ হয় । শিশুর সামাজিকীকরণে খেলার সাথি বা সঙ্গীদলের ভূমিকাও নেহায়েত কম নয়। খেলার সাথিদের সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা প্রভৃতি কারণে শিশুর মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। এছাড়া সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে আত্মীয়-জ্ঞাতিগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জ্ঞাতিদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ ও শিক্ষা পায়। এছাড়া পেশাগত সংস্থা, বই, পত্র- পত্রিকা, রাষ্ট্র প্রভৃতি সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
পরিশেষে বলা যায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উল্লিখিত মাধ্যমগুলো শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।