“যথাযথ সামাজিকীকরণের অভাবেই রহমান সাহেবের ছেলের এ অবস্থার জন্য দায়ী”— আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি একা একা সংঘটিত হতে পারে না। এক্ষেত্রে বেশকিছু মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বর্তমান আধুনিক সমাজে ওইসব বাহনের কর্মকাণ্ড পরিবর্তিত হয়ে তাদের ভূমিকা অনেক কমে গিয়েছে। ফলে শিশুর সামাজিকীকরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমানে শিল্পনির্ভর সমাজে মানুষ প্রচুর পরিমাণে নগরমুখী হচ্ছে। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে অণু পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে, ফলে নারী-পুরুষ উভয়কে কর্মক্ষেত্রে যেতে হয়। শিশু বাবা-মার সাহচর্য পায় না বলে সামাজিকীকরণ ব্যাহত হচ্ছে, যা উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়।
শিশু এখন আর আগের মতো বিকাল হলেই বন্ধুদের সাথে পাড়ার মাঠে খেলতে যায় না। তারা ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন কম্পিউটার গেমস এবং টিভিতে বিভিন্ন কার্টুন নিয়ে, যা তাদের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় । ইউটিউব, ফেসবুক, ইন্টারনেটের যুগে বই, পত্র-পত্রিকা, গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক কমে গিয়েছে। নগরায়ণের ব্যাপক বিকাশের ফলে জ্ঞাতিগোষ্ঠীদের মধ্যকার সম্পর্ক ক্ষীণ হচ্ছে। ফলে মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, যা শিশুর সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের অভাবে শিশুরা নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, যা সমাজকে অশান্ত করে তুলছে। এছাড়া সঠিক সামাজিকীকরণের অভাবে শিশুরা পরিণত বয়সেও সঠিক ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঘুষ, দুর্নীতিতে সমাজ ছেয়ে যাচ্ছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, যথাযথ সামাজিকীকরণের অভাবই রহমান সাহেবের ছেলের এ অবস্থার জন্য দায়ী।