সামাজিকীকরণের উক্ত বাহনটি অর্থাৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ছাড়াও অন্যান্য বাহনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে- এ বক্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।শিশুর সামাজিকীকরণের প্রাথমিক ও সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে পরিবার। শিশু পরিবারে জন্মগ্রহণ করে বেড়ে ওঠে এবং পরিবারের সদস্য বাবা-মা, দাদা-দাদী, ভাই-বোন যে আদর্শ ও সংস্কৃতি ধারণ করে শিশুরাও সাধারণত সেই আদর্শ ও সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী হয়। পরিবার সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সামাজিক ধ্যান-ধারণা ও সাধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করে সমাজে সংহতি বজায় রাখে। পরিবারের পর শিশুর সামাজিকীকরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিশুর দায়িত্ব কর্তব্য, অধিকার, ইতিহাস ও ঘটনাবলির -প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জিত হয়। এভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও প্রভাব বিস্তার করে। শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে খেলার সাথী ও সহপাঠীর ভূমিকা রয়েছে। এদের মাধ্যমেই সহযোগিতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি বিকশিত হয়। গণমাধ্যমগুলোর বিকাশ সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও স্থানীয় সমাজ ও সম্প্রদায়, সংঘ প্রভৃতিও শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।সুতরাং বলা যায়, সামাজিকীকরণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও উপর্যুক্ত মাধ্যমসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।