উদ্দীপকে সামাজিকীকরণের পরিবার ও গণমাধ্যম বাহনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।শিশুর বিকাশে অন্তরঙ্গ সামাজিক গোষ্ঠী হিসেবে পরিবারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এখানে শিশু সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের প্রথা-পদ্ধতির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। শিশু তার বাবা-মাকে খুব আপন মনে করে এবং তাদের কোমল মনে বাবা-মায়ের সংস্কৃতি সহজেই প্রবেশ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। পরিবারের মাধ্যমেই একটি শিশু সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, ত্যাগ, ভালোবাসা প্রভৃতি গুণগুলো অর্জন করে থাকে। তদ্রুপ সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকাও যথেষ্ট। আধুনিক যুগের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে। সমাজের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যম হলো গণমাধ্যম। গণমাধ্যমগুলোর বিকাশ সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে-সংবাদপত্র, বেতার, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ইন্টারনেট প্রভৃতি। উদ্দীপকে উল্লিখিত জামান ও তার বোনকে তাদের বাবা-মা পত্রপত্রিকা থেকে বিশেষ বিশেষ প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত করান। বাবা-মায়ের উৎসাহে তারা টেলিভিশন ও ওয়াইফাই ব্যবহার করে জ্ঞান ও শিক্ষামূলক শর্টফিল্ম এবং ওয়েবসাইট থেকে পাঠের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা শিখেছে এবং বাস্তবজীবনে সেগুলোর, প্রয়োগও শিখেছে। সর্বোপরি বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাজিকীকরণে যে পরিবার ও গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।