উদ্দীপকের রানার সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে যে মাধ্যমটি অনুপস্থিত সেটা হলো পরিবার।
শিশুর সামাজিকীকরণে পরিবার প্রধান ভূমিকা পালন করে। পরিবারকে জ্ঞানার্জনের প্রাথমিক সৃতিকাগার বলা হয়। শিশু তার পরিবার থেকে যে আদর্শ, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, আচার-আচরণ শিক্ষা লাভ করে থাকে সে হিসেবেই তার ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে উঠে। যে শিশু দুর্বল এবং ক্ষয়িষ্ণু পারিবারিক কাঠামোতে বেড়ে উঠে, সে দুর্বলচিত্তের অধিকারী হয় এবং অপরাধপ্রবণ হয়। পিতামাতার মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকলে পরিবারে শান্তি বিরাজ করে। আর এ ধরনের সম্পর্ক ও পরিবেশ শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পিতামাতা যদি তাদের সন্তানের সাথে ভালো আচরণ করেন তবে তারা আত্মপ্রত্যয়ী হয় আর খারাপ আচরণ করলে তারা নিঃসঙ্গ বোধ করে। পরিবারের ভাইবোনদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো থাকলে পরস্পর পরস্পরকে শ্রদ্ধা করে ও ভালোবাসে এবং সমাজে আদর্শ সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে। উদ্দীপকে আমরা দেখি, রানা ও সোমার বাবা-মা উভয়ই চাকরিজীবী হওয়ায় সন্তানদের সময় দিতে পারেন না। উপরন্তু তারা অধিকাংশ সময়ই ঝগড়ায় লিপ্ত থাকেন। অর্থাৎ তারা বাবা-মা হিসেবে সঠিক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ। তাদের তথা পরিবারের এরূপ ভূমিকার ফলেই রানা সঠিকভাবে বেড়ে উঠেনি।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকে রানার সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা অনুপস্থিত ছিল বলেই রানা অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ে।