উদ্দীপকে মুহিনের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিগত উপাদানের প্রভাব রয়েছে। এ উপাদানের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই পরিলক্ষিত হয়।
প্রযুক্তির অগ্রসরমান উদ্ভাবন মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ মানুষের জীবনে প্রতিটি বিষয় এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। যেমন অনেক পরিবারেই এখন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের সংযোগ রয়েছে। পরিবারের শিশুরা এসব উপকরণ ব্যবহার করে থাকে। এর মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের কারণে বিজ্ঞাপন, নাটক, ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র, বিখ্যাত, নাটক, বিখ্যাত লেখকের, বই, ম্যাগাজিন এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিত্ব ও জীবনযাপন প্রভৃতি জানতে পারে, যা শিশুর সামাজিকীরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আবার তথ্যপ্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। যেমন- অনেক সময় শিশুরা পড়াশোনায় ফাঁকি দিয়ে স্যাটেলাইট চ্যানেলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে, কম্পিউটারে গেমস খেলে, রাত জেগে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এছাড়া শিশুরা অনেক সময় অশ্লীল ভিডিও দেখে, যা তাঁদের সামাজিকীকরণে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির দ্বারা সহজেই অন্য দেশের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়া যায়। ফলে অনেক সময় দেখা যায়, অন্য দেশের সংস্কৃতির প্রভাবে আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করি। অর্থাৎ বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে আমরা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হারাতে বসেছি, যা আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সামাজিকীরণের অন্যতম উপাদান তথ্যপ্রযুক্তি সমাজের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয়ভাবেই প্রভাব বিস্তার করে।