রাষ্ট্রের উৎপত্তির ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য মতবাদ হচ্ছে বিবর্তনমূলক মতবাদ। উদ্দীপকের কাইয়ুম সাহেবের বক্তব্যে এ মতবাদেরই সমর্থন পাওয়া যায়। কারণ তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র একদিনে হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। সময়ের প্রয়োজনে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত অনুমানমূলক মতবাদগুলো বর্তমান যুগে আর গ্রহণীয় নয়। ঐতিহাসিক জ্ঞানের বিকাশ, সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির উদ্ভব এবং বিবর্তন নীতি স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে একটি সন্তোষজনক মতবাদ দাঁড় করানো সম্ভব হয়েছে, যা 'বিবর্তনমূলক মতবাদ' নামে পরিচিত। এ মতবাদ অনুসারে যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্র বিবর্তিত হতে হতে আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর এ বিবর্তনের মূলে যেসব উপাদান কাজ করেছে তার মধ্যে রক্ত-সম্বন্ধ, ধর্ম, বল প্রয়োগ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন, রাজনৈতিক চেতনা অন্যতম। বিবর্তনমূলক তত্ত্ব অনুসারে, রক্ত-সম্বন্ধ ছিল আদিম মানবসমাজে যোগসূত্র স্থাপনের পন্থা। এর ওপর ভিত্তি করেই পরিবার গড়ে ওঠে। আর রাষ্ট্রের ভিত্তি পরিবারেই নিহিত। পরিবার বর্ধিত হওয়ার ধারায় যখন বৃহত্তর সমাজের সৃষ্টি হয়, তখন আত্মীয়তার বন্ধন দুর্বল হয়ে ধর্মীয় বন্ধন গুরুত্ব পেতে থাকে। ধর্ম তখন সমাজ সংগঠনের ভিত্তিতে পরিণত হয়। সমাজে ব্যক্তি মালিকানার উদ্ভব ঘটলে মালিক ও শ্রমিক দুই শ্রেণির অস্তিত্ব অনিবার্য হয়ে ওঠে। এরই প্রেক্ষাপটে তৃতীয় শ্রেণির অর্থাৎ রাষ্ট্রের এবং শাসকের প্রয়োজন হয়, যে নিঃস্বার্থভাবে ব্যক্তিকে অন্যের শোষণের হাত থেকে রক্ষা করবে। আধুনিক রাষ্ট্রের উদ্ভব সেই সময় থেকেই, যখন মানুষ রাজনৈতিক সচেতনতা অনুভব করতে থাকে এবং গভীরভাবে সাধারণ কর্তৃত্বের প্রয়োজনবোধ করে। মূলত সমাজের সাধারণ সচেতনতা যখন যথার্থ মাত্রায় পৌঁছায় তখনই রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আধুনিক জ্ঞান ও চিন্তা-ধারার বিকাশের ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য মতবাদ হলো 'বিবর্তনমূলক মতবাদ', যার মূল বক্তব্য কাইয়ুম সাহেবের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।