ক' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। উদ্দীপকের 'ক' দেশের উৎপাদন ও ভোগের ক্ষেত্রে উৎপাদকের কোনো স্বাধীনতা নেই যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা হলো এমন এক ধরনের অর্থব্যবস্থা যেখানে সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠিত এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীনে অর্থনৈতিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রিত। অন্যভাবে বলা যায়, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণের ওপর কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না। দেশের যাবতীয় সম্পদ এবং উৎপাদনের উপকরণের ওপর সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে দেশের কলকারখানা, খনি, জমি প্রভৃতি সামাজিক সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। দেশের জনগণ বা রাষ্ট্র এসব সম্পদের মালিক। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো সুযোগ নেই। দেশের উৎপাদন, বণ্টন, বিনিময়, ভোগ প্রভৃতি সবকিছুই কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। এখানে উৎপাদিত দ্রব্যের বণ্টন ও ভোগের ওপর ভোক্তার স্বাধীনতা স্বীকৃত নয়। দাম নির্ধারণে বাজার ব্যবস্থার কোনো প্রভাব নেই। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবে কী উৎপাদন করতে হবে, কেমন করে এবং কার জন্য উৎপাদন করতে হবে। প্রত্যেক শ্রমিক নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করবে এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে।
সুতরাং বৈশিষ্ট্য বিচারে উদ্দীপকের 'ক' দেশের অর্থনীতিকে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বলা যেতে পারে।