উক্ত ধারণা অর্থাৎ ক্রিয়াবাদী তত্ত্ব এবং দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্ব মূলত সামাজিক স্তরবিন্যাসের আওতাভুক্ত ।
ক্রিয়াবাদী তাত্ত্বিকদের মতে, সমাজের প্রত্যেক মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী নয় এবং সবাই সম্পদের সুষম বণ্টনের অংশীদার হতে পারে না। ফলে সমাজে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দেখা দেয় এবং স্তরবিন্যাসের সৃষ্টি হয় ।
সামাজিক স্তরবিন্যাসের দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে মূলত মার্কসের দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ হতে । মার্কস মানবসমাজের ইতিহাসকে দেখেছেন শাসক ও শাসিতের দ্বন্দ্বের ইতিহাসরূপে। যার শেষ পরিণতি শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থার সৃষ্টি। কার্ল মার্কস অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এ পর্যন্ত যতগুলো সমাজব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে সেগুলো আলোচনার ক্ষেত্রে শ্রেণিসম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়েছেন। আদিম সাম্যবাদী সমাজ, প্রাচীন সমাজ, সামন্তবাদী সমাজ, পুঁজিবাদী সমাজ ও সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিভিন্ন শ্রেণির অস্তিত্ব ছিল, যা সমাজকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছে। উৎপাদনের হাতিয়ার বলতে মার্কস শ্রম, ভূমি, পুঁজি –এ তিনটি জিনিসকে বুঝিয়েছেন। এ উপকরণগুলোর ওপর ভিত্তি করে সমাজে শ্রেণি ও স্তরবিন্যাস সৃষ্টি হয়। মার্কস বলেন, সমাজ দুইটি বিপরীত শ্রেণিতে বিভক্ত। একটি শ্রেণি গঠিত হয় তাদের দ্বারা, যারা উৎপাদনের সাথে জড়িত নয় অর্থাৎ শোষক শ্রেণি। আবার অপরটি হলো উৎপাদন সম্পর্কের সাথে জড়িত। অর্থাৎ শোষিত শ্রেণি। এ সমাজের মূলকথা হলো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সমাজে শ্রেণির সৃষ্টি হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ক্রিয়াবাদী তত্ত্ব এবং দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্ব উভয়ই সামাজিক স্তরবিন্যাসের আওতাভুক্ত এবং উভয়ই সামাজিক শ্রেণি সম্পর্কে আলোকপাত করে ।