ছকটির '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস হবে। কেননা ছকটি দ্বারা সামাজিক স্তরবিন্যাসের চারটি ধরন দাসপ্রথা, এস্টেট প্রথা, সামাজিক শ্রেণি ও বর্ণপ্রথাকে প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের শহুরে জীবনের দিকে লক্ষ করলে সামাজিক স্তরবিন্যাসের প্রতিফলন দেখা যায়। বর্তমান বাংলাদেশের শহরে তিন ধরনের শ্রেণি লক্ষ করা যায়। যথা— ১. উচ্চবিত্ত শ্রেণি, ২. মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও ৩. নিম্নবিত্ত শ্রেণি। বর্তমান বিশ্বের বেশির ভাগ শহরের ন্যায় বাংলাদেশের শহরের মানুষদেরও এ তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। বিভিন্ন ধরনের কলকারখানার মালিক, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, দক্ষ পেশাজীবী শ্রেণির মানুষ উচ্চবিত্ত শ্রেণির অন্তর্গত। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তারা সমাজের শীর্ষে অবস্থান করেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির ওপর তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাব রাখেন। মধ্যবিত্তদের খুব বেশি সম্পত্তি থাকে না । তারা হলো সীমিত আয়ের মানুষ, যেমন- ছোট চাকুরে, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, উৎপাদক ইত্যাদি। আর যারা নিম্নবিত্ত তারা সমাজের সবচেয়ে নীচু শ্রেণির লোক । তাদেরকে সবাই নীচু চোখে দেখে। তারা নিজেরা ঠিকমতো চলতে পারে না। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর নির্ভর করেই তাদের চলতে হয়। যেমন— দিনমজুর, রিকশাচালক ইত্যাদি। সবশেষে বলা যায়, সামাজিক শ্রেণি হলো বাংলাদেশের শহুরে অঞ্চলে শ্রেণিবৈষম্যের ধরন। বর্ণপ্রথা বর্তমান হিন্দু সমাজে কিছুটা পরিলক্ষিত হলেও তা উল্লেখযোগ্য নয় ।