উদ্দীপকে সামাজিক জেন্ডারভিত্তিক অসমতা লক্ষণীয়। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
নারী ও পুরুষের মধ্যে শারীরিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে যে পার্থক্য তাকে লিঙ্গ বলে চিহ্নিত করা হয়। এই লিঙ্গ পার্থক্যর জন্যই মানবজাতির দুই অংশে একটি পুরুষ অপরটি নারী। আর জেন্ডার হচ্ছে সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা নারী পুরুষের পরিচয়, সামাজিকভাবে নির্ধারিত নারী পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ক এবং সমাজ কতৃক ও আরোপিত নারী পুরুষের ভূমিকা। প্রাকৃতিক কারণে এ অসমতার উদ্ভব হলেও সমাজ জীবনে এর সুদূরপ্রসারী অভাব রয়েছে। সুদূর অতীতের শিকারি সমাজে সন্তানধারণ, প্রতিপালন, গৃহস্থালির কাজ যদি সম্প্রদান ইত্যাদি কাজের সাথে নারীরা অধিকভাবে যুক্ত হয়ে পড়ায় এগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নারীর কাজ হিসেবে ধরে নিয়ে নারীকে গৃহবন্দী করে ফেলা হয়। সময়ের ধারাক্রমে শিকার, পশু পালন, জমি চাষ, যুদ্ধ প্রভৃতি কাজে পুরুষ প্রাধান্য সৃষ্টি হওয়ায় নারীরা পুরুষের অধস্তন করে পড়ে যা পুরুষ শাসিত সমাজে জন্ম দেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বামী স্ত্রী দুজনে চাকরিজীবী হলেও অফিস শেষ করে বাসায় এসে সন্তানদের দেখাশোনাসহ সংসারে যাবতীয় দায়িত্ব স্ত্রী পালন করেন। এসময় স্বামী ক্লাবে যান, মোবাইল বা টিভি দেখেন। তিনি মনে করেন সংসারের এসব দায়িত্ব পালন করা তার কাজ নয়। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর এই রূপ ধারণার পোষন করা পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের পরিচালক। একই সাথে জেন্ডারভিত্তিক অসমতাকে নির্দেশ করে। কার্যত পুরুষ ও নারীর লিঙ্গ ভেদাভেদে দোহাই দিয়ে সমাজ নারী এবং পুরুষের সম্পর্কের মধ্যে নানারকম অসমতা সৃষ্টি করেছে।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত সামাজিক জেন্ডারভিত্তিক অসমতা লক্ষণীয়।