উদ্দীপকের উক্ত বিষয়টি তথা বয়স বৈষম্যবাদ আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অন্তরায়। আমি উক্তিটির সাথে সম্পূর্ণ একমত। নিম্নে তা যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ করা হলো :
সামাজিক অসমতার অন্যতম একটি বিশেষ উদাহরণ হল বয়স বৈষম্যবাদ। প্রবীনদের অনুৎপাদনশীল মনে করা, অক্ষম ও দুর্বল মনে করা, চিন্তা চেতনায় সেকেলে ভাবা, তাদের থেকে আর কিছু পাওয়ার নেই, তারা কেবল বোঝা ইত্যাদি মনোভাব পোষণ করাই বয়স বৈষম্যবাদ। এ ধরনের বয়স বৈষম্যবাদের ফলে প্রবীণরা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। এছাড়াও এর ফলে প্রবীণরা সমাজের অন্য সদস্যদের সমাজ সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এছাড়া বয়স বৈষম্যবাদের ফলে প্রবীণরা মৌলিক প্রয়োজন যেমন খাদ্য, পোশাক-পরিচ্ছদ, চিকিৎসা ইত্যাদিতে বঞ্চনার শিকার হন। খাবারের তালিকায় প্রবীনদের পুষ্টি ও চাহিদাএ দিকে খেয়াল না রেখে শিশু ও কিশোর-যুবকদের চাহিদা প্রাধান্য দেওয়ার ফলে তাদের প্রতি অযত্ন করা হয়। যার ফলে তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। এছাড়াও যে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতামতকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয় এবং অগ্রাহ্য করা হয়। যার ফলে তারা উপেক্ষিত ও বঞ্চিত মনোভাব পোষণ করেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এটি একদিকে নিঃসন্দেহে সামাজিক মূল্যবোধে পরিপন্থী অন্যদিকে এটি সামাজিক অসমতা সৃষ্টি করে এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাই বলা যায়, বয়স বৈষম্যবাদ আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অন্তরায়।