উদ্দীপকের ঘটনা-২ অর্থাৎ লিঙ্গভিত্তিক অসমতা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত পোষণ করি।
দৈহিক পার্থক্যের ওপরে ভিত্তি করে সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণে বিভিন্নভাবে নারীদের মেধা ও মননশীলতাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। ফলে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীরা এখনও যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখে। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুন্নয়নের জন্য লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্য দায়ী। জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্যের কারণেই নারীদেরকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নারীদের তেমন অংশগ্রহণ নেই বলে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্যের কারণে আমাদের দেশের নারীদের উচ্চশিক্ষায় নিরুৎসাহিত করা হয়। জেন্ডারের ভিত্তিতে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্যের কারণে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রেই নারীরা লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে আমাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দিক দিয়ে এখনও পিছিয়ে রয়েছে, যা সামাজিক অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
উদ্দীপকের ঘটনা-২-এ আমরা দেখতে পাই, মবিন সাহেব ছেলের জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করলেও মেয়ের জন্য তা করেননি। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের লিঙ্গভিত্তিক অসমতাকে নির্দেশ করে। আর এ লিঙ্গভিত্তিক অসমতা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে, যা উপরের আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।