মানবসমাজে উক্ত স্তরবিন্যাসের ধরনটির প্রভাব আলোচনা কর।
উত্তর: মানবসমাজে উক্ত স্তরবিন্যাসের ধরন অর্থাৎ জাতিবর্ণ প্রথা ধরনটির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ভারতীয় জাতিবর্ণ প্রথায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র নামক চারটি বর্ণ রয়েছে। ব্রাহ্মণরা হলো শিক্ষক-যাজক, যারা সৃষ্টিকর্তার মস্তিষ্ক থেকে সৃষ্ট, এরা হলো সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। ক্ষত্রিয়রা হলো সমাজের যোদ্ধাশ্রেণি যারা সৃষ্টিকর্তার বাহু থেকে উদ্ভূত। যাবতীয় ব্যবসায়ী কাজকর্ম বৈশ্যদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে। যারা সৃষ্টিকর্তার উরু থেকে উদ্ভূত। আর সমাজের সবচেয়ে নিম্নশ্রেণির বর্ণ হলো শূদ্ররা। এরা সৃষ্টিকর্তার পায়ের পাতা থেকে উদ্ভূত। জাতিবর্ণ প্রথা অনুযায়ী জাতিবর্ণের সদস্যপদ ও পেশা বংশানুক্রমিকভাবে আরোপিত হয়। অর্থাৎ কেউ চাইলেই তার জাতি ও পেশা পরিবর্তন করতে পারবে না। আবার জাতিবর্ণ প্রথা অনুযায়ী স্বজাতির গণ্ডীর মধ্যেই বৈবাহিক সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকে। কেউ চাইলেই অন্য বর্ণের কারো সাথে বিবাহ করতে পারে না। প্রতিটি জাতিকেই নিজস্ব রীতিনীতি মেনে চলতে হয়। এ প্রথা অনুযায়ী বর্ণ, পেশা, কিছুই পরিবর্তন করা যায় না বলে একে closed system বলা হয়। কিন্তু বর্তমানে নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও উদারনৈতিক আধুনিক শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে জাতিবর্ণের ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যেকোনো জাতিবর্ণের লোক যেকোনো পেশা গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছে। বর্তমান আধুনিক বিশ্বে জাতিবর্ণের দৃঢ় রূপটি ক্রমশ তিরোহিত হচ্ছে। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জাতিবর্ণ প্রথা ভারতীয় সমাজের হিন্দুদের সামাজিক মর্যাদা নির্ধারণের একটি মানদণ্ড। তবে বর্তমানে জাতিবর্ণ প্রথার বদ্ধ দিকটির ক্রমশ প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে।
HSC Sociology 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Sociology 1st Paper · সৃজনশীল
মানবসমাজে উক্ত স্তরবিন্যাসের ধরনটির প্রভাব আলোচনা কর।
উদ্দীপক
চট্টগ্রাম কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর