সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উক্ত তত্ত্বটি অর্থাৎ প্যারোটোর এলিট চক্রাকার তত্ত্বটি যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
প্যারেটোর তার এলিট চক্রাকার তত্ত্বকে সমাজ পরিবর্তনের তত্ত্ব বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, সমাজ সব সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণী দ্বারা পরিচালিত হয় যাদের কতকগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকে। কেবল তারাই রাষ্ট্র বা সমাজের শাসক ক্ষমতা অধিষ্ঠিত থাকতে পারে। যারা উদ্ভাবনী মন - মানসিকতা এবং সামাজিক পরিবর্তনে আগ্রহী। এ গুণগুলো হারালে তারা শাসন ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়।
অভিজাত শাসক শ্রেণী যখন পরিবর্তনকে না মেনে নিয়ে রক্ষণশীলতাকে গুরুত্ব দেয় তখন অশাসক শ্রেণী পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে সচেতন হয়ে ওঠে। এতে করে দীর্ঘদিন অশাসক এলিট হিসেবে থাকা গোষ্ঠী রক্ষনশীলতার পরিবর্তে পরিবর্তনশীল মনোভাব ধারণ করে এবং শাসক ক্ষমতা দখল করে। একইভাবে তারা যখন বিপরীত দিকে ধাবিত হয়, তখন অশাসক পরিবর্তনশীল শ্রেণি পুনরায় শাসনভার বহন করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো রাষ্ট্রের ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দল যখন পরিবর্তনশীলতার পরিবর্তে রক্ষণশীল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে তখন বিরোধী দল সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে সচেতন হয়ে ওঠে। ফলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তারা পরিবর্তন এর অঙ্গীকার নিয়ে বিরোধী দল থেকে ক্ষমতাসীন দলে পরিণত হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্যারেটোর এলিট চক্রাকার তত্ত্বটি পরিবর্তনশীলতাকে গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের কার্যকর ভূমিকা পালন করে।