না, আমি মনে করি না সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কেবল অর্থনীতিই দায়ী, বরং সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরও বহু কারণ রয়েছে।
সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হচ্ছে জৈবিক উপাদান। জৈবিক উপাদান বলতে জন্ম-মৃত্যুহারের হ্রাস-বৃদ্ধি ও তার সামাজিক ফলাফল ইত্যাদিকে বোঝায়। জনসংখ্যা, জনগণের গড় আয়ু, লোকসংখ্যার ঘনত্ব, বহুবিবাহ প্রভৃতি সামাজিক পরিবর্তনকে প্রভাবিত করে। সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উপাদানের যথেষ্ট গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। প্রযুক্তিবিদ্যার প্রসার ও প্রয়োগে শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ফলে সমাজে পরিবর্তন ঘটে। আবার, সংস্কৃতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমাজের পরিবর্তন ও গতিশীলতা আসে। সমাজ পরিবর্তনের আরেকটি কারণ হলো মনস্তাত্ত্বিক উপাদান। মানুষের চিন্তা-ভাবনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ, ইচ্ছা-অনিচ্ছা ইত্যাদি মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের মাধ্যমে পরিবর্তন হয়। এছাড়া সমাজ পরিবর্তনে মহৎ ব্যক্তির প্রভাব বিশেষভাবে ক্রিয়াশীলতার দরুন সমাজে প্রতিষ্ঠিত প্রথা, আচার-অনুষ্ঠান এবং কুসংস্কারের পরিবর্তন হয়ে থাকে। উদ্দীপকে সমাজ পরিবর্তনে শুধু অর্থনৈতিক কারণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু উপরিউক্ত কারণেও সমাজ পরিবর্তন হয়ে থাকে।
সুতরাং এ কথা স্পষ্ট যে, সমাজ পরিবর্তনে শুধু অর্থনৈতিক কারণই একমাত্র কারণ নয়। বরং প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক প্রভৃতি কারণেও সামাজের পরিবর্তন ঘটে।