সমাজে ইভটিজিং নামক সামাজিক সমস্যা বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে তারেক সাহেবের উক্তিটি যথার্থ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
ইভটিজিং অর্থ হলো যেকোনো ধরনের আচরণের মাধ্যমে নারীদেরকে উত্যক্ত করা। কোনো একক কারণে ইভটিজিং ঘটে না। মূলত সচেতনতা অভাব, নৈতিক ও চারিত্রিক অবক্ষয়, সুশিক্ষার অভাব, মূল্যবোধের অবক্ষয়, বিকৃত মানসিকতা ইত্যাদি কারণে ইভটিজিং ঘটে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উপাদান অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। যেমন কম্পিউটার, ইন্টারনেট প্রভৃতি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের নাটক, সিনেমা দেখে নেতিবাচক শিক্ষা গ্রহণ করলে তা মানুষের ধ্যান, ধারনা ও মানসিকতাকে প্রভাবিত করে। যা অপরাধমূলক কর্মকান্ড ইভটিজিং ইত্যাদি বৃদ্ধি করতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ছেলেমেয়েরা কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট প্রভৃতি ব্যবহার করে গান, নাটক, সিনেমা দেখে। কলেজ শিক্ষক তারেক সাহেবের মতানুযায়ী, ছেলেমেয়েদের এই অভ্যাসের ফলে সমাজে ইভটিজিং বেড়ে গেছে। এটি মূলত প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব। কেননা প্রযুক্তি নেতিবাচক ব্যবহার মানুষের চিন্তা-ভাবনা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃত্তির অবক্ষয় ঘটায়। ফলে মানুষ সমাজ পরিপন্থীর কর্মকাণ্ডে জড়াতে দ্বিধাবোধ করে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন কিশোর কোনো সিনেমা দেখে ইভটিজিং এর দৃশ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এবং জ্ঞানের অপ্রতুলতাবশত ইভটিজিং করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে তারেক সাহেবের শেষোক্ত মন্তব্যে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
সুতরাং বলা যায় য, উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজে ইভটিজিং নামক সামাজিক সমস্যা বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে তারেক সাহেবের উক্তিটি যথার্থ।