উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রত্যয়টি তথা প্রগতি সামাজিক উন্নয়নের মাপকাঠি। নিম্নে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো :
যখন সামাজিক পরিবর্তন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মুক্তির সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তাকে সামাজিক উন্নয়ন বলে। সামাজিক উন্নয়নের আওতায় এগারটি সেক্টর অন্তর্ভুক্ত। এগুলো হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, খাদ্যভোগ এবং পুষ্টি, বস্ত্র ব্যবহার, কর্মসংস্থান ও কর্মের অবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা, বিনোদন, মানবিক স্বাধীনতা, সামাজিক সেবা এবং সামাজিক প্রতিরক্ষা। অন্যদিকে প্রগতি হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত বা বান্ছিত পরিবর্তন। সমাজবিজ্ঞানীরা কিছু মাপকাঠি দিয়ে প্রগতি চিহ্নিত করার আর চেষ্টা করেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জীবনযাত্রার উন্নত মান, জাতি বা ব্যক্তির শারীরিক উন্নতি, সকলের জন্য আর্থিক ও রাজনৈতিক সুবিধা, সবার জন্য উৎপাদিত পণ্যের বন্টন এবং ব্যবহার প্রতিক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব বিকাশের পূর্ণ সুযোগ, বিজ্ঞানের উত্তরোত্তর ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক শক্তিকে মানুষের কল্যাণার্থে প্রয়োগ ইত্যাদি।
প্রগতি নির্ণয়ের এই মাপকাঠি গুলো পর্যালোচনা করলে বুঝা যায়, একটি সমাজে সামাজিক উন্নয়ন সংঘটিত হচ্ছে কিনা কিংবা হলেও তার মাত্রা কিরূপ তা সহজে নির্ণয় করা যায়। অর্থাৎ কোন সমাজের সামাজিক উন্নয়ন চিহ্নিত করতে হলে উক্ত সমাজে কতটা প্রগতি সংঘটিত হয়েছে তা নির্ণয় করতে হবে।
তাই উপরই উল্লেখিত আল ও বিশ্লেষণ পূর্বক বলা যায়, প্রগতি সামাজিক উন্নয়নের মাপকাঠি - উক্তিটি যথার্থ।