উক্ত কারণ তথা ত্রুটিপূর্ণ সামাজিকীকরণকে অপরাধের একমাত্র কারণ বলে আমি মনে করি না। বরং অপরাধের আরও বহুবিধ কারণ রয়েছে।
পৃথিবীতে কেউ অপরাধী হয়ে জন্মায় না। সমাজই তাকে অপরাধী করে তোলে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পিছনে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত মরু অঞ্চলের মানুষ বদমেজাজি ও নিষ্ঠুর হয়ে থাকে। দৈহিক ও মানসিক। মানসিক প্রকৃতির উপরও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্ভর করে। সাধারণত সিঁধেল চোর দৈহিক গড়নে খাটো ও দুর্বল হয়। অন্যদিকে ডাকাতরা বেশি শক্তিশালী হয়। অর্থনৈতিক কারণেও সমাজে অপরাধ সৃষ্টি হয়। অভাব-অনটন দূর করতে দরিদ্র পরিবারের অনেকেই প্রথমে ছোটখাটো অপরাধ করে। পরে আস্তে আস্তে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এর মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। পারিবারিক কারণেও অনেকে অপরাধী হয়ে ওঠে। পিতামাতার বিচ্ছেদ, পৃথক আবাসন, স্নেহ-ভালোবাসার অভাব, পিতামাতার, উগ্রতা ছেলেমেয়েদেরকে অপরাধপ্রবণ করে তোলে। এছাড়া সুস্থ বিনোদনের অভাব, ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, রাজনৈতিক প্রশ্রয় প্রভৃতি কারণেও সমাজে অপরাধ বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ত্রুটিপূর্ণ সামাজিকীকরণ অপরাধের একমাত্র কারণ নয়। বরং অপরাধের আরও বহুবিধ কারণ রয়েছে। যা পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।