উদ্দীপকে উল্লিখিত জামাল সাহেবের ভদ্রবেশী অপরাধের নানাবিধ কারণ রয়েছে।
অপরাধের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভৌগোলিক পরিবেশ, বংশগত প্রকৃতি, দৈহিক ও মানসিক প্রকৃতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক পরিবেশ ইত্যাদি। অর্থনৈতিক কারণে সমাজে প্রচুর পরিমাণে অপরাধ সংঘটিত হতে দেখা যায়। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের সামাজিক অবস্থানকে ব্যবহার করে আয়কর ফাঁকি, ট্রেডমার্ক নকল, ঘুষ, দুর্নীতি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। মূলত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই তাদের মধ্যে অপরাধবোধের জন্ম হয়। আবার অনেক সময় ভৌগোলিক কারণেও অপরাধের সৃষ্টি হয়। যেমন-গ্রামের চেয়ে শহরে বেশি অপরাধ দেখা যায়। এছাড়া নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেও অনেকে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে।
উদ্দীপকের জামাল সাহেবের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনি একজন ভদ্রবেশী অপরাধী। মূলত সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং অর্থের প্রতি লোভ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্যেই তিনি খাদ্যে ভেজাল মেশানো, দুর্নীতি এবং আয়কর ফাঁকি এসব অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। এই অপরাধগুলো অনেক গোপনে ও নীরবে সংঘটিত হয়। তাই এ ধরনের অপরাধ শনাক্ত করা অনেকটা জটিল, কিন্তু অসম্ভব নয়। এসব অপরাধের ফলে রাষ্ট্র তার রাজস্ব হারাবে, যা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক খাতকে দুর্বল করে দেবে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ভদ্রবেশী অপরাধগুলো মূলত অর্থের প্রতি লোভ এবং সামাজিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণেই সংঘটিত হয়ে থাকে। এ ধরনের অপরাধ দেশ ও. সমাজের জন্য বেশ ক্ষতিকর।