উদ্দীপকের রাশেদের ক্ষেত্রে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে সে সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।
সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন- পরিবার, বিদ্যালয়, সঙ্গীদল প্রভৃতি শিশুকে সামাজিক মানুষে পরিণত করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই শিশু সামাজিক জগতে প্রবেশ করে এবং সমাজের কাঙ্ক্ষিত সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠানে যদি শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ না হয় তাহলে ব্যক্তির স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যেমনটি উদ্দীপকের রাশেদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কিশোর অপরাধ দমনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানটি। পরিবারের সদস্যদের সাহচর্যেই শিশুর মনে প্রশান্তি আসে। পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আবার শিশু তার বন্ধু-বান্ধবের সংস্পর্শে এসে নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তাই ভালো বন্ধু-বান্ধব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সহায়ক। বন্ধুদের সাথে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে শিশুরা সহযোগিতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি গুণাবলি রপ্ত করে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রবেশন ব্যবস্থাও বেশ কার্যকর। প্রবেশন হচ্ছে অপরাধীদের কারাগারে না পাঠিয়ে একজন অফিসারের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় তার চারিত্রিক সংশোধনের জন্য। এরপর যথাযথ পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পায়। আবার কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে 'সামাজিক সচেতনতা, বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রাশেদের মতো কিশোরদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উপরিউক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এসব প্রতিষ্ঠান যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে কমে যাবে।