উদ্দীপকে উল্লিখিত চুরি করা, ছিনতাই করা, ডাকাতি করা, কর ফাঁকি দেওয়া বিষয়গুলো হলো অপরাধমূলক কর্মকান্ড। অপরাধের সাথে বিচ্যুতির যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।
অপরাধ বলতে মানুষের এমন সব আচরণকে বোঝায়, যা জনকল্যাণ বিরোধী, সমাজের বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার পরিপন্থি ও নিষিদ্ধ এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। যেমন- চুরি করা, ডাকাতি করা, মাদক সেবন, কর ফাঁকি দেওয়া প্রভৃতি। উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যেও এসব বিষয় দেখা যায়, যা উপরে আলোচিত অপরাধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অপরাধের সাথে বিচ্যুতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও এরা এক নয়। এদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন— আইন ভঙ্গমূলক কাজ হচ্ছে অপরাধ, অন্যদিকে বিচ্যুতি হচ্ছে সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ। আবার সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ কার্যক্রমই অপরাধ বলে গণ করা হয়। পক্ষান্তরে, বিচ্যুতিমূলক আচরণ হচ্ছে সামাজিক মুল্যবোধ পরিপন্থি এমন কিছু অস্বাভাবিক আচরণ যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। অপরাধের শাস্তি রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত, সে শাস্তি হতে পারে লঘু অথবা গুরু। কিন্তু বিচ্যুত হচ্ছে সেই আচরণ, যা আইন লঙ্ঘন করে না। তবে মানুষ নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে থাকে ।
পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ এবং বিচ্যুতিমূলক আচরণের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। তবে এর কোনোটিই সমাজের কাছে কাঙ্ক্ষিত বা গ্রহণযোগ্য নয় ।