স্লোগান-২ কে অমান্য করা ভদ্রবেশী অপরাধ। যা লোকচক্ষুর আড়ালে ধীরে ধীরে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ভদ্রবেশী অপরাধ বলতে এমন অপরাধকে বোঝায়, যা আর্থ- সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ তাদের পেশাগত প্রক্রিয়ায় করে থাকে। যেমন-আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, তহবিল তছরূপ, ট্রেডমার্ক নকল করা, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান ইত্যাদি। স্লোগান-২ এ বলা হয়েছে, “সুখি স্বদেশ গড়তে ভাই, আয়করের বিকল্প নাই।” আয়কর ফাঁকি দেওয়া যেহেতু ভদ্রবেশী অপরাধ সেহেতু উক্ত স্লোগান অমান্য করলে তা ভদ্রবেশী অপরাধ হবে ।
ভদ্রবেশি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের কৃত কাজ সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেননা এ অপরাধীরা তাদের অপরাধগুলো এত সূক্ষ্ম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে করে, যা সাধারণ জনগণের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। এর ফলে দেখা যায়, লোকচক্ষুর আড়ালে করা এ কাজগুলো নীরব ঘাতক ব্যাধির মতো সমাজের ক্ষতি করে। নীরব ঘাতক ব্যাধি যেমন আস্তে আস্তে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ঠিক তেমনি ভদ্রবেশী অপরাধগুলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন যন্ত্রকে আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো ব্যক্তি যদি আয়কর ফাঁকি দেয়, তাহলে হয়তো সে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবে। কিন্তু এর ফলে রাষ্ট্র তার রাজস্ব হারাবে, যা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক খাতকে দুর্বল করে দিবে।
উপরের আলোচনা শেষে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, সাধারণ অপরাধ অপেক্ষা ভদ্রবেশী অপরাধ সমাজ ও দেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর।