উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা-১ এর আনিস সাহেবের কৃত অপরাধটি হলো ভদ্রবেশী অপরাধ এবং ঘটনা-২ এর রাসেলের কৃত আচরণটি হলো বিচ্যুতি। অপরাধ এবং বিচ্যুতির মধ্যে কিছু সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থি যেকোনো কাজই অপরাধ বলে পরিগণিত হয়। অন্যদিকে, সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি যেকোনো আচরণ বিচ্যুতির পর্যায়ে পড়ে। অপরাধ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে, বিচ্যুতিমূলক আচরণ সামাজিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও নীতিনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। সব ধরনের বিচ্যুতিমূলক আচরণ অপরাধ নয়। কিন্তু সব অপরাধই বিচ্যুতিমূলক আচরণ । সামাজিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো বিচ্যুতিমূলক আচরণের কিছু দিক অপরাধ বলে পরিগণিত হতে পারে। অন্যদিকে, যতই সামাজিক পরিবর্তন ঘটুক না কেন অপরাধ সবসময়ই বিচ্যুতিমূলক আচরণ বলে পরিগণিত হবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে শাস্তি নির্ধারিত থাকে। শাস্তি 1/3 অংশ ভোগ করার পর অপরাধীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তার আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে বিশেষ লক্ষ রাখা হয়। অপরদিকে, বিচ্যুতিমূলক আচরণের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো শাস্তির বিধান নির্ধারিত থাকে না। অপরাধ এমন এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অস্বাভাবিক আচরণ বা অনানুষ্ঠানিক কোনো বাহন বা সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অন্যদিকে, বিচ্যুতিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলকভাবে অপরাধ থেকে সহজ ।
সুতরাং বলা যায়, অপরাধ এবং বিচ্যুতিমূলক আচরণ উভয়ই সমাজের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। তাই এগুলোর কোনোটিই সমাজের কাছে কাঙ্ক্ষিত বা গ্রহণযোগ্য নয়।