উদ্দীপকের ঘটনা-২ কোন ধরনের মৌল প্রত্যয়? ঘটনা-১ ও ঘটনা-২ এর মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের ঘটনা-২ বিচ্যুতি নামক মৌল প্রত্যয়কে নির্দেশ করে। বিচ্যুতি বলতে বোঝায় সমাজের স্বাভাবিক এবং কাঙ্ক্ষিত আচরণের পরিপন্থি কোনো কাজ। এটি গোষ্ঠী বা সমাজের সামাজিক আদর্শকে ভঙ্গ করে। মা-বাবার কথা না শোনা, বড়দের সালাম না দেওয়া, ঠিকমতো স্কুলে না যাওয়া, স্কুল পালানো, বড়দের অসম্মান করা প্রভৃতি বিচ্যুতিমূলক আচরণের উদাহরণ। উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ দেখা যায়, সোহেল বড়দের সালাম দেয় না, মা-বাবার কথা শোনে না প্রভৃতি। যা স্পষ্টত বিচ্যুতি। ঘটনা-১ এর অপরাধের সাথে ঘটনা-২ এর বিচ্যুতির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। যেমন- রাষ্ট্রীয় আইনের সাথে সাংঘর্ষিক আচরণই অপরাধ। অর্থাৎ সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রমকেই অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। পক্ষান্তরে, বিচ্যুতিমূলক আচরণ হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ পরিপন্থি এমন কিছু অস্বাভাবিক আচরণ যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে কিন্তু রাষ্ট্রীয় আইনে এর জন্য কোনো শাস্তির বিধান নেই। রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থি যেকোনো কাজই অপরাধ বলে পরিগণিত হয়। অন্যদিকে, সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি যেকোনো আচরণ বিচ্যুতির পর্যায়ে পড়ে। অপরাধ হচ্ছে আইনের দ্বারা নিষিদ্ধ আচরণ। অন্যদিকে, বিচ্যুতিমূলক আচরণ হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও রীতিনীতির পরিপন্থি আচরণ। অপরাধ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে, বিচ্যুতিমূলক আচরণ সামাজিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও রীতিনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। সব ধরনের বিচ্যুতিমূলক আচরণ অপরাধ নয়। কিন্তু সব অপরাধই বিচ্যুতিমূলক আচরণ। অপরাধ এমন এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অস্বাভাবিক আচরণ যা অনানুষ্ঠানিক কোনো বাহন বা সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অন্যদিকে, বিচ্যুতিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলকভাবে অপরাধ থেকে সহজ। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, অপরাধ এবং বিচ্যুতিমূলক আচরণ উভয়ই সমাজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। তাই এর কোনোটিই সমাজের কাছে কাঙ্ক্ষিত বা গ্রহণযোগ্য নয়।
HSC Sociology 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Sociology 1st Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের ঘটনা-২ কোন ধরনের মৌল প্রত্যয়? ঘটনা-১ ও ঘটনা-২ এর মধ্যে পা…
উদ্দীপক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর