হ্যাঁ, উদ্দীপকের নির্দেশিত সালগুলো বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশকেই নির্দেশ করছে। এ বক্তব্যের সাথে আমি পুরোপুরি একমত। কেননা উক্ত সালগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালুর মাধ্যমে এদেশে সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশকে নিশ্চিত করেছে।
১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানে চর্চার সুযোগ তৈরি হয়। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তা চালু হয়। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। এরপর ১৯৯২ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২০০২ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ২০১২ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব অনার্স বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্স হিসেবে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়। আবার দেশে প্রতিষ্ঠিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান নামে একটি আলাদা বিভাগ চালু আছে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত সালগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান চালু হওয়ার মাধ্যমে এদেশে সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছে এবং এর ক্রমবিকাশ অব্যাহত রয়েছে। সুতরাং, আমার মতামতটি পুরোপুরি যথার্থ।