বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিকাশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ১৯২১ সাল থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত বহু জ্ঞানী, গুণী শিক্ষক ও অন্যান্য বিদ্বান ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫০ সালে প্রখ্যাত সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ও ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ক্লদ লেডি স্ট্রস বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পঠন-পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্য বাংলাদেশে আসলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজমুল করিম ও অজিত কুমার সেন তার সাথে দেখা করেন এবং বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০২ সালে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২ সালে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা পায়।
সমাজবিজ্ঞান বিকাশের জন্য বিভিন্ন কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ও ডিগ্রি কোর্সে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। ১৯৮৬ সালে প্রথম জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়) স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সমাজবিজ্ঞান চালু হয়। বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোতে, সমাজবিজ্ঞান স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং সমাজবিজ্ঞানের পরিচর্যা চলছে। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্রের বিকাশধারার একটি ধারাবাহিক ইতিহাস রয়েছে।