উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সমাজবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এ বিষয়টি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পরিবার ব্যবস্থা, গ্রামীণ ও শহুরে সমাজ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। বাংলাদেশের সমাজ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে; গ্রামীণ ও শহুরে সমাজের মধ্যে পার্থক্য বাড়ছে। সমাজবিজ্ঞান এ পরিবর্তনগুলো বোঝার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে, যা দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়ক হতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাংলাদেশের একটি প্রধান সমস্যা। সমাজবিজ্ঞান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ, এর সামাজিক প্রভাব এবং এ সমস্যা সমাধানের জন্য নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন- পরিবার পরিকল্পনার মতো কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। উদ্দীপকে অপরাধপ্রবণতার কথা বলা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞান অপরাধের সামাজিক কারণগুলো বিশ্লেষণ করে, যেমন- দারিদ্র্য, বেকারত্ব," নগরায়ণ বা সামাজিক বৈষম্য। এই জ্ঞান ব্যবহার করে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা অপরাধ দমনের কার্যকর কৌশল প্রণয়ন করতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মসূচির জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। কোনো নীতি যখন প্রণয়ন করা হয়, তখন তার সামাজিক প্রভাব কী হতে পারে, তা সমাজবিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণ করেন। এ বিশ্লেষণ কার্যকর ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
সুতরাং বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান শুধু একটি তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি একটি ব্যবহারিক হাতিয়ার, যা সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধান করতে এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নে সহায়তা করে।