উদ্দীপকের চিত্রে কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র', আল-বেরুনির 'ভারততত্ত্ব', আবুল ফজলের 'আকবরনামা' ও 'আইন-ই-আকবরি' এবং এ. কে. নাজমুল করিমের 'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থের উল্লেখ রয়েছে। এসব গ্রন্থ বাংলাদেশের সমাজ চিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ।
ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজচিন্তার ইতিহাস প্রায় দু'হাজার বছরের পুরোনো। মৌর্য যুগের কূটনীতিবিদ কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থে সে সময়ের বাংলার আর্থ-সামাজিক চিত্র ফুটে উঠেছে। সুলতান মাহমুদের সভাসদ ও পারস্যের পণ্ডিত আবু রাইহান আল-বেরুনি তার 'ভারততত্ত্ব' গ্রন্থে ভারতবর্ষের একটি বস্তুনিষ্ঠ চিত্র অঙ্কন করেছেন । মুঘল যুগের ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের 'আইন-ই-আকবরি' ও 'আকবরনামা' গ্রন্থে মুঘল আমলের বাংলার সমাজকাঠামো সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক এ. কে. নাজমুল করিম তার 'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থে বাংলাদেশের সমাজের সমাজকাঠামো, সংস্কৃতি, সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রভৃতি সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করেছেন। যেকোনো দেশের সমাজ চিন্তা কেবলই বর্তমানের বিষয় নয়, বরং এর সাথে অতীতের সমাজ চিন্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। বাংলাদেশের সমাজ চিন্তার ক্ষেত্রেও অতীতের সমাজচিন্তাবিদদের ধারণা বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। এ দিক থেকে উদ্দীপকে উল্লেখিত গ্রন্থগুলো তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজকে বস্তুনিষ্ঠ এবং পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র', আল-বেরুনির 'ভারততত্ত্ব', আবুল ফজলের 'আকবরনামা' ও 'আইন-ই-আকবরি' এবং এ. কে. নাজমুল করিমের 'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।