উদ্দীপকে মনিরুলের পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান।
সমাজবিজ্ঞান একটি আধুনিক জ্ঞানকাণ্ড। যার মূল বিষয় হলো সমাজ ও মানুষ। সমাজবিজ্ঞান সমাজের মানুষের আচার-আচরণ, সামাজিক রীতিনীতি, সংগঠন, মূল্যবোধ, সামাজিকীকরণ, ঐতিহ্য, সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলে। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাচীনকাল থেকেই সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে আলোচনা থাকলেও তা আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের মতো সুসংগঠিত ছিল না। একটি স্বতন্ত্র একাডেমিক ডিসিপ্লিন হিসেবে এর বিকাশ ঘটেছে ইউরোপীয় জ্ঞান-ভাবনার প্রভাবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ তুলনামূলকভাবে নতুন।
উদ্দীপকে মনিরুলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়টি পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের ইতিহাসের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পৃথক বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন বিভাগে বিক্ষিপ্তভাবে সমাজবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা হতো, তবে এটি পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে পড়ানো হতো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেই এটি বাংলাদেশে একটি স্বতন্ত্র জ্ঞানকাণ্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এ ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলে এ শাস্ত্রটি চর্চার পথ আরও প্রশস্ত হয়। ধীরে ধীরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২ সালে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২ সালে সমাজবিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়। বর্তমানে এনসিটিবির অধীনেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়।