"উন্নয়নশীল দেশের সামাজিক সমস্যা উপলব্ধিতে উক্তি বিষয়টির জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ"। নিম্নে উক্তিটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো :
সমাজ বিজ্ঞান হচ্ছে এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের সঙ্গে জড়িত সব বিষয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে। অর্থাৎ সমাজের মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে তার প্রত্যেকটি সমাজবিজ্ঞান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করে। সমাজ, সংঘ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সমাজ কাঠামো, সামাজিক স্তরবিন্যস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সমস্যা, সামাজিক পরিবর্তন, সামাজিক ইতিহাস, সামাজিক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয় সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার আওতাভুক্ত। আর সমাজের সঙ্গে জড়িত সব বিষয় নিয়ে সমাজবিজ্ঞান গভীরভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে।
সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার পরিধি বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় সমগ্র সমাজ হচ্ছে সমাজবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্র। এই শাস্ত্রের জ্ঞান থাকলে সমাজ কাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের গঠন পারস্পরিক সম্পর্ক কার্যাবলী অনুধাবন ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব। বস্তুুত সমাজ বিজ্ঞানের জ্ঞান পরিবর্তনশীল সমাজের ধরন পরিবর্তনের কারণ ও গতি প্রকৃতি সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে। সমাজের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, পরিবর্তনের ধারা প্রভৃত্তি পাঠে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞানী মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
সমাজবিজ্ঞান পাঠের ফলে ব্যাক্তি তার সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবগত হয়। এছাড়াও যেকোনো সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা, এই সমস্যা সম্পর্কে গভীরভাবে অনুধাবন এবং সমাধানের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান কাজ করে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বিদ্যমান নিরক্ষরতা, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি সামাজিক সমস্যার কারণ, প্রকৃতি এবং সমাধানের পথ সমাজবিজ্ঞানের বস্তুনিষ্ঠ অনুশীলনের মাধ্যমে খুঁজে বের করা সম্ভব।
তাই বলা যায়, "উন্নয়নশীল দেশের সামাজিক সমস্যা উপলব্ধিতে উক্তি বিষয়টির জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ" - উক্তিটি যথার্থ।