উদ্দীপকের ছক-১-এর বিষয়সমূহ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের সমাজচিন্তা বা সমাজ চর্চার দিকটি নির্দেশ করেছে।
ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজচিন্তা সম্পর্কিত প্রথম আলোচনা দেখা যায় কৌটিল্যের রচনায়। তার 'অর্থশাস্ত্র' (মৌর্য যুগ) গ্রন্থে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কলাকৌশল সম্পর্কিত আলোচনা পাওয়া যায়। এজন্য কৌটিল্যকে প্রাচ্যের সমাজবিজ্ঞানের অগ্রদূত বলা হয় । গুপ্ত যুগের পর ইতিহাস পরম্পরায় মুসলমানরা ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতায় আসে। ষোড়শ শতকে আবুল ফজল এর আইন-ই-আকবরী ও আকবরনামায় ভারতীয় সমাজচিন্তা সম্পর্কে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। উনিশ শতকের শেষের দিকে উইলিয়াম উইলসন হান্টারের সম্পাদনায় সামাজিক তথ্যের এক অনন্য গ্রন্থ 'দি ইম্পেরিয়াল ' গেজেটিয়ার (১৮৮১) প্রকাশিত হয়। যা সমাজচিন্তা সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে স্বীকৃত। ভারতের স্বাধীনতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জী, ১৯৫১ সালে ইন্ডিয়ান ওয়ার্কিং ক্লাস এবং ১৯৩৩ সালে ল্যান্ড প্রোবলেমস্ অব ইন্ডিয়া গ্রন্থ প্রকাশ করে সমাজবিজ্ঞান চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ।
উদ্দীপকে অর্থশাস্ত্র, আইন-ই-আকবরী, 'দি ইন্ডিয়ান ওয়ার্কিং ক্লাস এবং ল্যান্ড প্রোবলেমস্ অব ইন্ডিয়া' গ্রন্থের উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গ্রন্থ সমাজবিজ্ঞান চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-১-এর বিষয়সমূহ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার দিকটি নির্দেশ করেছে।